দিল্লিতে ঘন কুয়াশায় রেড এলার্ট জারি

বছরের শেষপ্রান্তেও স্বস্তি মিলছে না ভারতের রাজধানী দিল্লির বাসিন্দাদের। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে গোটা শহর, যার ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। রাস্তাঘাট থেকে আকাশপথ সবখানেই দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।

সোমবার দিল্লির আকাশ ছিল অত্যন্ত ঝাপসা। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার সকালে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সফদরজং এলাকায় সকাল আটটায় দৃশ্যমানতা নেমে আসে মাত্র ৫০ মিটারে। পরে কিছুটা উন্নতি হলেও তা সর্বোচ্চ ১০০ মিটারের বেশি হয়নি, যা যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

কুয়াশার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সোমবার প্রায় ১২৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া আটটি বিমানের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে এবং প্রায় ২০০টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বিত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ‘ক্যাটেগরি-৩’ প্রযুক্তির সহায়তায় ফ্লাইট পরিচালনার চেষ্টা করছে।

রেল যোগাযোগেও দেখা দিয়েছে একই চিত্র। ঘন কুয়াশার কারণে বহু ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে চলছে, ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই কুয়াশার দাপট আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কালকে কুয়াশার আনুষ্ঠানিক মৌসুম হিসেবে ধরা হচ্ছে। সে কারণে এই সময়ে বিমান ও রেল যাত্রায় বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যাতায়াত সমস্যার পাশাপাশি দিল্লিবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে শহরের ভয়াবহ বায়ুদূষণ। সোমবার দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ৪০১, যা কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মানদণ্ড অনুযায়ী ‘গুরুতর’ শ্রেণিতে পড়ে। আগের দিন একিউআই ছিল ৩৯০ অর্থাৎ ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ে, যা মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও অবনতি হয়েছে।

শহরের অধিকাংশ বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেই বাতাসের মান এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, নতুন বছরের প্রথম দিন দিল্লির বাতাসের মান আবারও মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

যদিও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি রয়েছে, তবুও কুয়াশা ও দূষণের এই দ্বিমুখী চাপ রাজধানী দিল্লিকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না নগরবাসীর।