
আপোষহীন নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী সহ সমগ্র বৃহত্তর চট্টগ্রাম। আজ (৩০ ডিসেম্বর) ভোর সকালে বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের খবর সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও মুহূর্তেই বিদ্যুৎ গতিতে পৌঁছে যায় সর্বত্রই।
তাৎক্ষণিকভাবে শোকাকুল হয়ে পড়েন বিএনপির নেতাকর্মী শুধু নয়; সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ। অজান্তে অশ্রুসজল চোখে অনেকেই বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোকাভিভূত হচ্ছেন।
গ্রাম জনপদের কৃষক শ্রমিক দিনমজুর থেকে শুরু করে ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, আলেম ওলামাসহ সাধারণ মানুষ যারাই শুনছেন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই; তারাই জনপ্রিয় এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নামটি পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন এবং শোক প্রকাশ করছেন।
বিএনপির বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও শোক এবং সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী অনেকেই চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকায় রওয়ানা হচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা ছুটছেন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছতে এবং আগামীকাল বুধবার সম্ভাব্য নামাজে জানাজায় হাজির হয়ে গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শোক এবং শ্রদ্ধা জানাতে। যে যার মতো করে ছুটে যাচ্ছেন তারা রাজধানী ঢাকায়।
বন্দরনগরী সহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রামের মানুষের সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিবিড় ও গভীর সম্পর্ক বজায় ছিল আজীবন। বেগম জিয়া চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন ঐতিহাসিক সেই লালদীঘি ময়দান থেকে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় নামমাত্র মূল্যে সরকারি জমি বরাদ্দ দিয়ে দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ভিত্তি ফলক স্থাপন করেছিলেন। চট্টগ্রামের মীরসরাই এবং পতেঙ্গা-বন্দর এই দুই নির্বাচনী আসন থেকে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিপুল ভোটে।
চট্টগ্রাম নগরীর সার্কিট হাউসে ১৯৮১ সালের ৩০ মে বিপথগামীদের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেছিলেন তাঁর স্বামী বাংলাদেশের অনন্য জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান। তবে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর স্বামীকে হারানোর শোকে প্রতিশোধ নয়; বরং শোককে শক্তিতে পরিণত করে অত্যন্ত মার্জিত রুচি, ধৈর্য, বিচক্ষণ রাষ্ট্র নায়কোচিতভাবেই দেশ পরিচালনা করে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশ পরিচালনা এবং বিএনপির নেতৃত্বদান সারাদেশের মানুষের মতো চট্টগ্রামবাসীর মনেও গভীর রেখাপাত করে আছে। তাঁর এই ইন্তেকালে গভীর শোকের ছায়া পড়েছে গোটা বৃহত্তর চট্টগ্রামে।





